• আপডেট টাইম : 03/10/2026 09:26 PM
  • 2 বার পঠিত
  • আওয়াজ প্রতিবেদক , ঢাকা
  • sramikawaz.com
দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও কাঁচামালের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন খরচ বাড়ায় দেশের রেস্তোরাঁ খাত বর্তমানে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এতে রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
 
এছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার জন্য হিমশিম খাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে রেস্তোরাঁ খাতে বিক্রি ৩০ শতাংশ কমেছে।
 
এই সংকট উত্তরণে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
 
৩ অক্টোবর শনিবার পুরানা পল্টনের ফার্স হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানায় সংগঠনটি।
 
এসময় লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, চাল, ডাল, তেল, মাংস, মাছ, মশলা, শাকসবজি ও ডিমসহ প্রায় সব খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ, এলপিজি, পানি, ভাড়া, পরিবহন ও শ্রম ব্যয়ও বেড়েছে। অথচ অধিকাংশ রেস্তোরাঁ দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সমন্বয় করে খাবারের দাম বাড়াতে পারছে না, কারণ এতে গ্রাহক কমে যাচ্ছে।
 
রেস্তোরাঁগুলোর সার্বিক বিক্রি এখন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
তিনি বলেন, যে কারণে এখন ব্যবসায় টিকে থাকা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থায় রেস্তোরাঁ শিল্পের টেকসই বিকাশ, কর্মসংস্থান সংরক্ষণ এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান নীতি, ব্যয় কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।
 
এ পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি নয় দফা দাবি তুলে ধরে। সেগুলো হলো–
 
১. রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনায় ওয়ান স্টপ সার্ভিসের দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।
২. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মালিকদের দাম সমন্বয়ে জেলা প্রশাসনের অন্যায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
৩. ভ্যাট আদায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি অবিলম্বে বন্ধসহ সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ ও উৎসে কর ২ শতাংশ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে।
৪. এলপিজি ও জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধান এবং লোডশেডিং কমিয়ে আনতে হবে।
৫. বিভিন্ন দপ্তরের অভিযানের নামে রেস্তোরাঁ মালিকদের চরম হয়রানি ও অহেতুক আর্থিক জরিমানা বন্ধ করতে হবে।
৬. রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্প ঘোষণা দ্রুত বাস্তবায়নসহ রেস্তোরাঁ খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট শিল্প নীতি ঘোষণা এবং রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সদস্যপদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক– বাস্তবায়ন করতে হবে।
৭. গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দিতে হবে।
৮. ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দলের ট্যাগিং দিয়ে হয়রানি ও চাঁদাবাজি দ্রুত বন্ধ করে ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৯. রেস্তোরাঁ সেক্টরে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা ও রেস্তোরাঁ শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার প্রস্তাব।
 
এসময় ইমরান হাসান বলেন, বর্তমানে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনার জন্য একাধিক দপ্তর থেকে ১০-১২টি অনুমোদন নিতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। ফলে ব্যবসা পরিচালনা এবং কার্যকর তদারকি উভয়ই বাধাগ্রস্ত হয়। তাই, রেস্তোরাঁ খাতকে একটি সমন্বিত কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার আওতায় এনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি একটি ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর প্রস্তাব করছি।
 
তিনি আরও বলেন, ভ্যাট আদায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধসহ সম্পূরক শুল্ক ১০% এবং উৎসে কর ২% সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা দরকার। এছাড়া ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দ্বারা ব্যবসায়ী ও রেস্তোরাঁ মালিকদের অযথা হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাপ সৃষ্টি, অনৈতিক সুবিধা দাবি কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
 
ইমরান হাসান বলেন, এলপিজির সরবরাহ সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও বাজারে অস্থিতিশীলতার কারণে রেস্তোরাঁ পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় রেস্তোরাঁ মালিকদের দাবি, এলপিজির পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত এবং কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মূল্য আদায় বন্ধে কঠোর বাজার তদারকি করতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের অভিযানের নামে রেস্তোরাঁ মালিকদের চরম হয়রানি ও অহেতুক আর্থিক জরিমানা বন্ধ করতে হবে।
 
তিনি বলেন, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্পের মর্যাদা প্রদান করা হলেও এখনো এর সুফল উদ্যোক্তারা যথাযথভাবে পাচ্ছেন না। রেস্তোরাঁ শিল্পকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের আওতায় প্রযোজ্য ভ্যাট-কর সুবিধা দেওয়ার পরিবর্তে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক হারে ভ্যাট-কর পরিশোধ করতে হচ্ছে। তাই রেস্তোরাঁ খাতের অর্থনৈতিক অবদান বিবেচনায় শিল্প ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন এবং একটি পৃথক শিল্পনীতি প্রণয়নের জোর দাবি জানাচ্ছি।
 
এসময় গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান রেস্তোরাঁ শিল্পের চাহিদা পূরণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে রেস্তোরাঁ সেক্টরের জন্য গরুর মাংস আমদানির অনুমতি প্রদানের দাবি জানাচ্ছি। বর্তমানে নগরভিত্তিক রেস্তোরাঁগুলোতে উচ্চমানের ও নিরবচ্ছিন্ন গরুর মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে বর্তমানে গরুর মাংস ৮০০-১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহও অত্যন্ত নগণ্য।
 
এছাড়া ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দলের ট্যাগিং দিয়ে হয়রানি ও চাঁদাবাজি দ্রুত বন্ধ করে ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন রাজনৈতিক বা সামাজিক দলের সঙ্গে ট্যাগিং করে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির ঘটনা দ্রুত বন্ধ করে একটি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ব্যবসায়ীর রাজনৈতিক পরিচয় বা সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে তাকে হয়রানি করা কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
 
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি শাহ সুলতান খোকন, প্রথম যুগ্ম মহাসচিব মো. ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলাম, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান বিপু প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...