• আপডেট টাইম : 20/09/2026 02:12 PM
  • 112 বার পঠিত
  • আওয়াজ প্রতিবেদক , ঢাকা
  • sramikawaz.com

বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে সবজির দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে ন্যূনতম মজুরি ৩০,০০০ টাকা নির্ধারণ করার জোর দাবি জানিয়েছেন গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু।

তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো হলেও দেশের অর্থনীতির মূল চাকা সচল রাখা পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের কোনো খেয়াল নেই। এই উদাসীনতা ও বৈষম্য দূর করে দ্রুত বেতন বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল ও বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার তাদের দাবি মেনে নিয়েছে—যা ভালো কথা। কিন্তু দেশের কারখানাগুলোতে দিনরাত শ্রম দেওয়া বেসরকারি খাতের পোশাক শ্রমিকরা আজ উচ্চ বাজারদরের কাছে দিশেহারা। বাজারে প্রতিদিন সবজির দাম বাড়ছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ার প্রভাবে বাজারে পণ্যের দাম আরও বেড়েছে। ১২,৫০০ টাকার বর্তমান মজুরি দিয়ে একজন শ্রমিকের এক মাস চলা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

তিনি জানান, ২০২৩ সালে অনেক রক্তপাত ও আন্দোলনের পর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২,৫০০ টাকা করা হয়েছিল। আইন ও নিয়ম অনুযায়ী তিন বছর পরপর বেতন পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। নতুন সরকার দায়িত্বে আসার ছয় মাস পার হয়ে গেলেও মজুরি বাড়াতে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। মজুরি বোর্ড গঠন করা কোনো জটিল কাজ নয়; আইনি বাধ্যবাধকতার জন্যই এটি করতে হবে। এজন্য সরকারের সদিচ্ছাই যথেষ্ট। তাই চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠন করতে হবে এবং সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে (ডিসেম্বরের মধ্যে) নতুন মজুরি ঘোষণা করতে হবে।

জীবনযাত্রার খরচ বিবেচনা করে তিনি তৈরি পোশাকখাতের শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ৩০,০০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান। একই সঙ্গে অন্যান্য খাতের (যেমন: চাতাল শ্রমিকসহ নিম্নবিত্ত শ্রেণির শ্রমজীবী মানুষ) কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁরা যেন বেঁচে থাকার মতো মজুরি পান, সেজন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

উৎপাদনে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের অনন্য ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে মোশরেফা মিশু বলেন, বেতন না বাড়লে শ্রমিকদের কষ্ট ও ভোগান্তি আরও বাড়বে। পেটের টানে কষ্ট সহ্য করতে করতে একসময় শ্রমিকদের মনে সরকারের প্রতি ক্ষোভ ও অসন্তোষ চরম আকার ধারণ করবে। কাজের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে এবং শ্রমিকদের অসন্তোষ এড়াতে হলে সরকারকে অবিলম্বে এই মাসের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এই শ্রমিক নেতাদের মতে, পোশাক খাতের লাখ লাখ শ্রমিকের জীবনযাত্রার মান রক্ষা করতে এবং তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে এখনই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...