কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে খুনে হ্যাট্রিক হয়েছে। মাদকাসক্ত বড় ভাইকে ছোট ভাই খুন করে হ্যাট্রিক পূর্ণ করেছে। এরফলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে জনমনে। একের পর এক প্রকাশ্য দিবালোকে খুনের ঘটনায় দৌলতপুর আতঙ্কের জনপদে পরিণত হচ্ছে দিন দিন।
মাদক সেবনের জন্য টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বাবাকে মারধরের ঘটনায় ছোট ভাই ইমরান হোসেন (৩০) হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে বড় ভাই এমদাদ হোসেন রাসেল (৩৫) কে হত্যা করেছে। শুক্রবার উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের সোনাইকুন্ডি তাজপুর গ্রামে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত মাদকাসক্ত রাসেল একই গ্রামের ডাব ব্যবসায়ী আহাদ হোসেনের বড় ছেলে এবং অভিযুক্ত ছোট ছেলে ইমরান হোসেন শিল্পনগরী আল্লারদর্গায় একটি পারটেক্স কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মাদক সেবনের জন্য রাসেল তার বাবা আহাদ হোসেনের কাছে ২০০ টাকা দাবি করে। রাসেল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত থাকায় তার অত্যাচারে পরিবারের সদস্যরা অতিষ্ঠ হওয়ার কারণে বাবা আহাদ হোসেন ২০০ টাকার পরিবর্তে তাকে ২০ টাকা দিয়ে চলে যেতে বললে ক্ষিপ্ত হয়ে রাসেল তার বাবাকে মারধর করে। বাবাকে মারধরের ঘটনা জানতে পেরে ছোট ভাই ইমরান হোসেন বাড়িতে গিয়ে বাবার ডাব কাটার হাসুয়া দিয়ে রাসেলের পায়ে কোপ দিলে সে গুরুতর আহত হয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত রাসেলের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় ৩টি এবং ঈশ্বরদী থানায় একটি মাদকের মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত ছোট ভাই ইমরান হোসেন পলাতক রয়েছেন।
এরআগের দিন বৃহস্পতিবার বিকেলে দৌলতপুর সীমান্তে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রæপের সংঘর্ষে গোলাম মোস্তফা টেঙ্গুর (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও সড়কির আঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষ প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটায় বলে স্থানীয়রা জানায়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন চড়ইকুড়ি (মরার চর) গ্রামে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত গোলাম মোস্তফা টেঙ্গুর একই গ্রামের মৃত দৈয়ব মন্ডলের ছেলে।
ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বিকেলে নিহতের দাফন সম্পন্ন হওয়ার আগেই খবর পাওয়ায় ভাইয়ের হাতে ভাই খুনের। ভারত থেকে পাচার করে আনা মাদককে কেন্দ্র করে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আজাহার মেম্বার ওরফে আজা মেম্বার ও নিহত টেঙ্গুরের বড়ভাই রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পটল গ্রæপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে পটলের ছোট ভাই টেঙ্গুর নিহত হয় এবং আহত হয় উভয়পক্ষের অন্তত ৮জন। এ ঘটনার জের ধরে নিহতের পরিবার, স্বজন ও প্রতিবেশীরা আজাহার মেম্বার তার স্বজনদের বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে অন্তত ১০টি গরু, মোটরসাইকেলসহ ব্যাপক লুটপাট ও ভাঙচুরের তান্ডলীলা চালায় বলে ভূক্তভোগীদের অভিযোগ।
অপরদিকে অনলাইনে জুয়ায় হেরে রাজা বিশ^াস (২৫) নামে এক যুবককে হত্যা করে তার বন্ধুরা। হত্যার পর নির্জন মাঠের মধ্যে ঘাস ও খড় দিয়ে ঢেকে রাখে নিহত যুবকের লাশ। বুধবার সকালে তাঁর লাশ উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর সাতবিল মাঠে একটি সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত যুবকের বন্ধু রিফাজ হোসেন (২৬) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রিফাজ উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের সফেদ হোসেনের ছেলে। পুলিশের দাবি, অনলাইন জুয়ায় বড় অঙ্কের টাকা হেরে আর্থিক সংকটে পড়ে রিফাজ। সেই টাকা জোগাড় করতে বন্ধু রাজাকে মাঠের ভেতর ডেকে নিয়ে হত্যা করে তাঁর পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয়। বন্ধুদের হাতে নির্মম খুন হওয়া রাজা বিশ^াস (২৫) একই এলাকার ইমাম আলীর ছেলে। এ ঘটনায় মামলা হলে আর কোন আসামি গ্রেপ্তার হয়নি পরিবার সুত্র জানিয়েছে।
তবে হ্যাট্রিক খুনের বিষয়ে পুলিশের দাবি, গত ৩দিনে পৃথক ৩টি হত্যাকাÐের ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ঘটনায় জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
পরপর ৩দিনে (বুধ-শুক্রবার) ৩টি হত্যাকাÐের ঘটনায় দৌলতপুরের সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রæত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে, ফিরবে জনমনে স্বস্থি।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, গত ৩দিনে দৌলতপুরে ৩টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে একজনকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন অবনতি না ঘটে, সে বিষয়েও পুলিশ সতর্ক রয়েছে এবং নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এ জাতীয় আরো খবর..