বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি অবিলম্বে বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন এবং শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি ও বাংলাদেশী পোশাকের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করার দাবিতে একটি র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২০ সেপ্টেম্বর রবিবার দুপুর ১২টায় জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন-এর উদ্যোগে “গার্মেন্টস শ্রমিক ফেয়ার ওয়েজ : ফেয়ার প্রাইজ” শিরোনামে এই র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি পল্টন মোড় থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসে এক সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা মো. কবির হোসেন, মিসেস আরিফা আক্তার, মিসেস জেসমিন আক্তার, রফিকুল চৌধুরী, মো. রিয়াদ হোসেন, শাহ আলম, সাহিল হোসেন সিহাব, মনিরা মনি, সুরাইয়া জেসমিন রুমা প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হলো গার্মেন্টস শিল্প, যেখানে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কর্মরত এবং যা থেকে মোট রপ্তানি আয়ের ৮৩ শতাংশ অর্জিত হয়। তবে বর্তমান বাজারে খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও সন্তানের শিক্ষাসহ জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের তুলনায় শ্রমিকদের বিদ্যমান ১২,৫০০ টাকার ন্যূনতম মজুরি অত্যন্ত অপ্রতুল। প্রতিযোগী পোশাক উৎপাদনকারী দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, শ্রীলঙ্কায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার রুপি, কম্বোডিয়ায় ২০-১০ ডলার (২০১০ ডলার) এবং নেপালে ১৯,৫৫৩ রুপি। এছাড়া সেসব দেশের শ্রমিকরা উপস্থিতি, যাতায়াত, আবাসন ও খাবার ভাতাসহ নানা সুবিধা পাচ্ছেন, যেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামাজিক সুরক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ যখন স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা অত্যন্ত আবশ্যক। শ্রমিকের এই ন্যায্য অধিকার শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব, উৎপাদনশীলতা, শ্রমিকদের কর্মপ্রেরণা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
সরকারের সংশোধিত শ্রম আইন অনুযায়ী আগে যেখানে ৫ বছর পর পর মজুরি নির্ধারণের নিয়ম ছিল, তা কমিয়ে প্রতি ৩ বছর পর পর পুনঃনির্ধারণের বিধান করা হয়েছে। সে অনুযায়ী ২০২৩ সালের নভেম্বরে নির্ধারিত ১২,৫০০ টাকা মজুরির ৩ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের অক্টোবরে এবং আইনগতভাবে ২০২৬ সালের নভেম্বরে নতুন মজুরি নির্ধারণ হওয়া উচিত। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত মজুরি পুনর্নির্ধারণের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তারা অবিলম্বে নতুন মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার দাবি জানান।