সাভারের আশুলিয়ায় ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা, কালো তালিকা তৈরি বন্ধ এবং শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা গিয়েছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আশুলিয়ায় অন্তত ২০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ৩১ অক্টোবর শনিবার আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর, কাঠগড়া, জিরাবো ও নরসিংহপুর এলাকায় থমথমে অবস্থা দেখা যায়।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিন দাবিতে সকালে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর নিউ এইজ অ্যাপারেলস ও নিউ এইজ গামের্ন্টসে কর্মবিরতি পালন শুরু করেন শ্রমিকরা। পরে আল-মুসলিম, কন্টিনেন্টাল ও কাঠগড়া এলাকার এআর জিন্স, নাঈম সোয়েটার, নরসিংহপুরে এফএনএফ গামের্ন্ট এবং জিরাবো এলাকার টাউজার লাইন পোশাক কারখানা শ্রমিকরাও বিক্ষোভ করেন। দুপুরে নিশ্চিতপুর এলাকায় জড়ো হন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
এসময় পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করলে শ্রমিকরা ইট-পাটক্ষেল ছুড়তে থাকেন। এতে শিল্প পুলিশের অন্তত পাঁচ সদস্য আহত হন। এসময় পোশাক কারখানার বেশ কয়েকজন শ্রমিকও আহত হন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউ এইজ অ্যাপারেলসের একজন শ্রমিক বলেন, ‘বর্তমানে সবকিছুর দাম বেড়েছে। কিন্তু আমাদের বেতন বাড়েনি। তাহলে আমরা চলব কীভাবে?’
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, ‘সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মজুরি বোর্ড গঠন করবে এবং অক্টোবরের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করবে। কিন্তু ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেনি। এ কারণে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।’
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে জানান, শ্রমিকরা উত্তেজিত হলে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। এসময় উত্তেজিত শ্রমিকরা পুলিশের ওপর হামলা করলে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ২০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রশিদ বলেন, সকাল থেকে জিরাবো, নিশ্চিতপুর ও কাঠগড়ায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করেন। তবে দুপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।’
এ জাতীয় আরো খবর..