• আপডেট টাইম : 17/10/2026 12:38 AM
  • 39 বার পঠিত
  • শরীফুল ইসলাম, কুষ্টিয়া
  • sramikawaz.com

আজ ১৭ অক্টোবর ১লা কার্তিক শনিবার বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে থাকছে ৩দিনের উৎসব। উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে সাঁইজির আত্মার টানে ভাবতত্বে মত্ত হতে আখড়াবাড়িতে ছুটে এসেছেন বাউল, সাধু, লালন ভক্ত ও অনুসারীরা। উৎসব উপলক্ষে বসেছে গ্রামীণ মেলা।


সাঁইজি তার বানীতে বলেছেন, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষকে ভজলে বর্তমানেই অমূল্য নিধি অর্থাৎ ¯্রােষ্টার সান্নিধ্য পাওয়া সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন সহজ মানুষের সন্ধান। আর সেই সহজ মানুষ ছিলেন দরবেশ ফকির লালন শাহ্। তাইতো আত্মার শুদ্ধির আশায় সাঁইজির তিরোধান দিবসে তাঁর আখড়াবাড়িতে ছুটে আসা। আর এখানে এলেই মিলে জীবের দর্শন, মিলে আত্মার শান্তি। এ যেন পরম পাওয়া ও প্রাপ্তি।


আখড়াবাড়িতে আসা লালন অনুসারীদের মতে, স্মরণোৎসবের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসলে বাড়িতে তাদের আর মন বসে না। সাঁইজির টানে কখন আখড়াবাড়িতে ছুটে আসবেন সেই ভাবাবেগে বিভোর হয়ে থাকে মন। এখানে আসলে শুদ্ধ জ্ঞানলাভ ও আত্মশুদ্ধি ঘটে, ঘটে ভাবের বিনিময়।


‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে কুষ্টিয়া লালন একাডেমির আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ৩দিন ব্যাপী তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান শনিবার সন্ধ্যায় উদ্ধোধন হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী উৎসবের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। উৎসবকে নির্বিগ্ন করতে সবধরণের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া লালন একাডেমির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন হাসান।


এদিকে আজ শুক্রবার বিকেল ৪টায় লালন আখড়াবাড়ি পরিদর্শন শেষে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন লালন উৎসবকে নির্বিগ্ন করতে ৩স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


উল্লেখ্য, ১২৯৭ বঙ্গাব্দের ১লা কার্তিক মানব ধর্মের অনুসারী ও অধ্যাত্ম সাধক ফকির লালন শাহ্ দেহত্যাগ করেন। এরপর থেকে তাঁর ভক্ত ও অনুসারীরা আঁখড়াবাড়িতে সাধুসঙ্গসহ নানা আয়োজনে দিবসটি স্মরণ ও পালন করে আসছেন। ৩দিনের এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে আখড়াবাড়ির পাশের চত্বরে বসছে গ্রামীণ মেলা। উৎসব শেষ হবে ১৯ অক্টোবর।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...