কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার দূর্গম চরে অপরাধমূলক কর্মকাÐ দমনে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।
৯ অক্টোবর শুক্রবার ভোর থেকে এ অভিযান শুরু হয়ে চলে বিকেল পর্যন্ত। অভিযানে প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য অংশ নেয়। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযানে ১১ জনকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, দৌলতপুরের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলসহ পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাÐ চালিয়ে আসছে একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। চরের নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল, বালুমহাল দখল, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, কৃষিজমির ফসল লুট এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওইসব এলাকায় প্রায়ই গোলাগুলি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে থাকে। হত্যাকান্ডের ঘটানাও ঘটেছে একাধিক। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের এসব ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়।
এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা ও চরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সমন্বিতভাবে চার জেলার পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। এর অংশ হিসেবে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সীমান্তসংলগ্ন পদ্মার চরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের ধরতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অভিযানে দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়ন এবং ভেড়ামারা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযান চলাকালে অপরাধীদের সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করতে চরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হয়।
অভিযানের বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, পদ্মার দূর্গম চরে অভিযান চলমান রয়েছে। বিস্তারিত পরে জানাতে পারবো।
অভিযানে অংশ নেওয়া কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম জানান, সন্ত্রাসী তৎপরতা দমন, অবৈধ দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে ও অপরাধীদের ধরতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে। একই সময়ে রাজশাহী, নাটোর, পাবনার চরাঞ্চলেও অভিযান চালানো হয়েছে। চলমান অভিযানে দুপুর পর্যন্ত ১১ জনকে আটকের কথা জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরে চরাঞ্চলে একাধিক অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। অভিযানে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী ও অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর আজ (৯ অক্টোবর) আবারও সমন্বিত অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ জাতীয় আরো খবর..