চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি পরিচালনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে ১৫ বছরের একটি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। একই সাথে বন্দরের তথ্য, ছবি ও ভিডিও প্রকাশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
তারই প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট—এনডিএফ।
বিকাল ৫টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় গুলিস্তান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ব্রি. জে. (অব.) এম জাহাঙ্গীর হোসেন। আতিকুল ইসলাম টিটুর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান ও এনডিএফের সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। অথচ সরকার দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অজুহাতে এটি বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদী তথা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ ও গুরুত্বের প্রেক্ষাপটে বন্দর ইজারা ও করিডর প্রদান করা হচ্ছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিশ্বস্ত দালাল ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিকতায় ক্ষমতাসীন সরকারও মার্কিন পরিকল্পনা ও স্বার্থরক্ষায় একের পর এক জাতীয় ও জনস্বার্থবিরোধী চুক্তি করে চলেছে।
বক্তারা আরও বলেন, বন্দরের বৃহত্তম টার্মিনাল নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার মাধ্যমে এখানে সামরিক কার্যক্রমসহ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ তার প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি চীনের বিরুদ্ধে নজরদারি বৃদ্ধি করবে। এর মধ্য দিয়ে দেশকে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার ঝুঁকি তৈরি করছে সাম্রাজ্যবাদের দালাল ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারী সরকার মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের এসব তৎপরতার সংবাদ গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন প্রকাশিত না হয়, সে জন্য বন্দরের তথ্য, ছবি ও ভিডিও প্রকাশেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশকে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা এবং জাতীয় ও জনস্বার্থবিরোধী এসব চুক্তির বিরুদ্ধে আজ বিভিন্ন প্রগতিশীল ব্যক্তি, সংগঠন ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী শক্তি প্রতিবাদে মাঠে নেমেছে। স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ প্রশাসন দেশের স্বার্থে বিক্ষুব্ধ এসব ব্যক্তি ও সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করে অনেককে গুরুতর আহত করেছে। এ ঘটনায় সমাবেশে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, মূলত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থে ও পরিকল্পনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তির বিরুদ্ধে যখন সারাদেশের মানুষ বিক্ষুব্ধ, তখন তথাকথিত বিরোধী দল এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অপর দালাল শক্তি জামায়াত-এনসিপি জনগণের পক্ষে অবস্থান না নিয়ে বিভিন্ন কৌশলে মার্কিন পরিকল্পনা কার্যকর করছে। নেতৃবৃন্দ বিএনপি-জামায়াত-এনসিপিসহ সাম্রাজ্যবাদের সব দালালদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমে দেশকে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার তৎপরতার বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
এ জাতীয় আরো খবর..