• আপডেট টাইম : 21/09/2026 09:49 PM
  • 62 বার পঠিত
  • আওয়াজ প্রতিবেদক , ঢাকা
  • sramikawaz.com
ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রীতি গ্রুপের (Pretty Group) কারখানা প্রাঙ্গণে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭ জনের প্রাণহানি এবং অন্তত ১৪ জন আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন (বিএনটিইউএফ)। ঘটনাটিকে নিছক "দুর্ঘটনা" হিসেবে না দেখে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের দ্রুত বিচার, আহতদের বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা এবং নিহত ও আহতদের পরিবারকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
 
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হাসান আলী।
 
সংগঠনটি জানায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রীতি গ্রুপের অন্তর্গত প্রীতি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিঃ, প্রীতি কম্পোজিট গার্মেন্টস লিঃ, অক্সফোর্ড কালারস লিঃ এবং এস সুহি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিঃ-এর কারখানা চত্বরে কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার নামানোর সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এ ধরনের ঘটনাকে কেবল ‘দুর্ঘটনা’ আখ্যা দিয়ে কারও দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। সিলিন্ডার পরিবহন, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে মালিকপক্ষ, ডিলার বা সরকারি তদারকি সংস্থার কোনো অবহেলা বা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন ছিল কি না—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।
 
বিএনটিইউএফ উল্লেখ করে, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আইএলও কনভেনশন ১৫৫ এবং ১৮৭ অনুমোদন করেছে, যা আগামী ২০ নভেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। ফলে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি এখন রাষ্ট্র ও মালিকপক্ষের জন্য আরও বাধ্যতামূলক আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব।
 
সংগঠনটির পক্ষ থেকে উত্থাপিত মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
 
স্বাধীন তদন্ত কমিটি: বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, অগ্নিনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, বিইআরসি (BERC) ও বুয়েট (BUET)-এর বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা।
 
দায় নির্ধারণ ও বিচার: বিস্ফোরণের উৎস, সিলিন্ডারের সনদ এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (DIFE) তদারকিতে গাফিলতি খতিয়ে দেখে দায়ীদের প্রচলিত ও শ্রম আইনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
 
বিনামূল্যে চিকিৎসা: আহতদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটসহ বিশেষায়িত হাসপাতালে রাষ্ট্র ও মালিকপক্ষের যৌথ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যয় বহন করা।
 
আইএলও মানদণ্ডে ক্ষতিপূরণ: একতরফা সিদ্ধান্ত না নিয়ে ILO Convention No. 121-এর নীতি অনুযায়ী নিহতদের পরিবারের আয়-জীবিকা হারানো এবং আহতদের অক্ষমতা বিবেচনা করে পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
 
শিল্পাঞ্চলে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম: আশুলিয়া, সাভার, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে ডিআইএফই, ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডার, বয়লার ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকিতে জরুরি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা।
 
বিএনটিইউএফ সতর্ক করে জানায়, একটি প্রাণহানি কোনো সংখ্যা বা পরিসংখ্যান নয়। তাই কেবল আর্থিক সহায়তায় দায় শেষ না করে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে—যাতে আর কোনো শ্রমিককে কর্মক্ষেত্রে প্রাণ দিতে না হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...