• আপডেট টাইম : 13/09/2026 10:22 PM
  • 90 বার পঠিত
  • শরীফুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি ( কুষ্টিয়া)
  • sramikawaz.com
 
শিরোনাম সহ খবরটি লিখুন-
 
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির গতি কমেছে। তবে কমেনি পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১ সেন্টিমিটার। এদিকে বন্যাকবলিত উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ৪০টি গ্রামের পানিবন্দি মানুষের জরুরি ভিত্তিতে ১৮ মেট্রিক টন চাল ও শুকনা খাবারের জন্য ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 
 
জনপ্রতি ১০ কেজি করে ১৮ মেট্রিক টন চাল পাবেন ১ হাজার ৮০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। এ ছাড়াও ২ লক্ষ টাকার শুকনা খাবার দেওয়া হবে আরও ২৫০টি পরিবারকে। আগামীকাল সোমবার চিলমারী ইউনিয়ন এবং পরদিন মঙ্গলবার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে এসব সহায়তা বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।
 
সরকারি হিসাবে, বন্যাদুর্গত এলাকায় প্রায় ৮ হাজার পরিবারের ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, দুই ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামের অন্তত ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।
 
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হাইড্রোলজি বিভাগের তথ্যমতে, আজ রোববার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ০৬ সেন্টিমিটার। যেখানে বিপদসীমা ১৩ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি। 
 
শনিবার সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার। সে হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে মাত্র ১ সেন্টিমিটার।
 
পাউবোর হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন জানান, উজান থেকে নেমে আসা পানি ও ভারী বৃষ্টির কারণে পদ্মায় দ্রæতগতিতে পানি বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধির হার কমে ১ সেন্টিমিটারে নেমেছে। তবে পানি বৃদ্ধির ধীরগতি অব্যাহত থাকবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত নতুন করে পানি বাড়েনি।
 
গত এক সপ্তাহেরও বেশী সময় ধরে পানিবন্দি অবস্থা বিরাজ করায় বন্যাদুর্গত এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এরইসাথে গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র খামারিরা।
 
এদিকে পানির বৃদ্ধির গতি কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও বন্যায় প্লাবিত এলাকায় কৃষির ক্ষতি  উদ্বেগজনক হারে বেড়ছে। দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানান, চিলমারী, রামকৃষ্ণপুর, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে প্রায় ১ হাজার হেক্টর আবাদি জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মরিচ ও কলাচাষিরা। পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে কৃষির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
 
এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি টলমল অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় চরাঞ্চলের ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ২টি মাদ্রাসাসহ মোট ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোতে দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে।
 
বন্যার্তদের বিষয়ে চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মান্নান বলেন, শনিবার থেকে নতুন করে তেমন পানি বাড়েনি। তবে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। আজ সোমবার থেকে আমার ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
 
দৌলতপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শুভাগত বিশ্বাস বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তুলনায় আমাদের কাছে বরাদ্দ কম এসেছে। এ কারণে জেলা প্রশাসক মহোদয় বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছেন। দ্রæতই নতুন বরাদ্দ আসবে বলে আমরা আশা করছি। বর্তমানে যে সহায়তা পেয়েছি, তা আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে বিতরণ শেষ করা হবে। তিনি আরও বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তাদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, নতুন করে অতিরিক্ত পানি বাড়ার আশঙ্কা কম। তবে দুই এক দিন পানি স্থিতিশীল থাকার পর কমতে শুরু করতে পারে।
 
এদিকে বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে সরকারি সহায়তা ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। 
 
তিনি বলেন, আগামীকাল সোমবার থেকে আমরা বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে সহায়তা কার্যক্রম শুরু করবো। প্রথম দিন চিলমারী ইউনিয়নে এবং মঙ্গলবার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
বানভাসী মানুষের পাশে দাড়াতে সরকারসহ বিত্তবান এগিয়ে আসার আহŸান সকলের। 
 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...