• আপডেট টাইম : 13/09/2026 10:14 PM
  • 57 বার পঠিত
  • আরবার ফাহিম, ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক
  • sramikawaz.com

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধিতে প্লাবিত হয়ে অন্তত ৩৫টি গ্রামের প্রথাগত জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রায় ৪৭০ হেক্টর আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক কৃষি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মরিচ ও কলাচাষিরা। একই সঙ্গে চরাঞ্চলের ২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে এবং ৬০ হাজারের মতো মানুষ পানিবন্দী হয়ে তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন।

তবে স্বস্তির খবর হচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি বৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে মাত্র ১ সেন্টিমিটারে নেমে এসেছে।

পদ্মার পানি পরিস্থিতি পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হাইড্রোলজি বিভাগ জানায়, রবিবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ০৬ সেন্টিমিটার (বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার)। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শনিবার সকালে পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার, অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে মাত্র ১ সেন্টিমিটার।

পাউবোর হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে পদ্মায় দ্রুত পানি বাড়লেও গত ২৪ ঘণ্টায় তা স্থিতিশীল রূপ নিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত নতুন করে পানি বাড়েনি।’

কৃষি, শিক্ষা ও জীবনযাত্রায় ক্ষয়ক্ষতি

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানান, চিলমারী, রামকৃষ্ণপুর, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নে ৪৭০ হেক্টর আবাদি জমি এখন পানির নিচে। বিশেষ করে মরিচ ও কলার ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

এছাড়া লোকালয়ে পানি ওঠায় চরাঞ্চলের ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে দাপ্তরিক কাজ চালু রয়েছে। বসতবাড়ি ও রান্নার জায়গা এবং নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদিপশু নিয়ে কৃষক ও খামারিরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের তথ্য

সরকারি হিসাবে দুর্গত এলাকায় প্রায় ৮ হাজার পরিবারের ৩০-৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রামে অন্তত ৬০ হাজার মানুষ জলজট ও বন্যায় বন্দী হয়ে পড়েছেন। চিলমারী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান জানান, পানি তেমন না বাড়লেও পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

ত্রাণ ও সরকারি সহায়তা

উপজেলার দুর্গতদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১৮ টন চাল ও শুকনা খাবারের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ৮০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পাবে ১০ কেজি করে চাল এবং ২৫০ পরিবার পাবে শুকনা খাবার।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শুভাগত বিশ্বাস বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কিছুটা কম হওয়ায় জেলা প্রশাসক মহোদয় মন্ত্রণালয়ে নতুন বরাদ্দের জন্য কথা বলেছেন। আশা করছি দ্রুতই আরও সহায়তা পাওয়া যাবে। বর্তমানে প্রাপ্ত বরাদ্দ মঙ্গলবারের মধ্যে বিতরণ করা হবে।’

কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা জানান, সোমবার চিলমারী এবং মঙ্গলবার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে সরকারি সহায়তা ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...