• আপডেট টাইম : 19/08/2026 10:23 AM
  • 64 বার পঠিত
  • আওয়াজ প্রতিবেদক
  • sramikawaz.com
দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এটি নিরসনে অবিলম্বে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক টিইউসি। 
 
১৮ আগস্ট প্রদত্ত এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি ইদ্রিস আলী এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন সরকারের প্রতি এই আহ্বান জানান।
 
বিবৃতিতে শ্রমিক নেতারা বলেন, দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট জনজীবন, শিল্প উৎপাদন এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবিকাকে মারাত্মকভাবে বিপন্ন করে তুলেছে। শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে শ্রমিকদের চাকরি হারানো ও সময়মতো মজুরি না পাওয়ার উদ্বেগ বাড়ছে এবং ইতোমধ্যেই বহু শ্রমিক কাজ হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
 
নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, দেশে বর্তমানে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩,৮০০ থেকে ৪,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ মাত্র ২,১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন বিপুল ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে দৈনিক ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ কমে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করার জোর দাবি জানান তারা।
 
তারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অনিয়মের সমালোচনা করে জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণে সামগ্রিক ‘সিস্টেম লস’ ১০.১৩ শতাংশে পৌঁছানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই বিপুল অপচয় রোধে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান নেতারা।
 
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বোঝা কোনোভাবেই শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের ওপর চাপানো যাবে না। সংকট মোকাবিলার নামে কারখানা বন্ধ, শ্রমিক ছাঁটাই, মজুরি বন্ধ কিংবা অতিরিক্ত কর্মভার চাপিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। শিল্পের উৎপাদন সচল রাখার পাশাপাশি শ্রমিকদের চাকরি, নিয়মিত মজুরি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...