জাহাজ ভাঙা শিল্পে একের পর এক শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে রাজধানীতে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৭ আগস্ট সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘শ্রমিক অধিকার জাতীয় এডভোকেসি অ্যালায়েন্স’ ও ‘শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম’-এর যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের নেতারা বলেন, মালিকের মুনাফার জন্য শ্রমিকদের জীবন বলি হতে পারে না। শ্রমিকদের নিরাপত্তাই সর্বাগ্রে ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
শিপইয়ার্ডে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
সমাবেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক এএএম ফয়েজ হোসেন, জাতীয় শ্রমিক জোট-বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, সাধারণ সম্পাদক বাদল খান ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতনসহ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা সম্প্রতি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। তারা প্রশ্ন তোলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারে তথাকথিত ‘গ্রিন শিপইয়ার্ডে’ শ্রমিকদের আইনগতভাবে নিয়োজিত করা হয়েছিল কি না।
তারা বলেন, এটি স্রেফ একটি সংখ্যা নয়; বরং অবহেলার কারণে ৯টি পরিবারের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের শামিল।
সমাবেশ থেকে শ্রমিক নেতারা বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে স্বচ্ছ তদন্ত ও শাস্তি নিশ্চিত করা। তারা বলেন, দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটিতে অবশ্যই শ্রমিক প্রতিনিধি রাখতে হবে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ প্রকাশ করতে হবে এবং ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের বিষয়ে শ্রমিক নেতারা বলেন, নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি আহত শ্রমিকদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
আইন ও কনভেনশন বাস্তবায়নের বিষয়ে শ্রমিক নেতারা বলেন, জাহাজ ভাঙা শিল্পের সুরক্ষায় হংকং কনভেনশন ও বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ইয়ার্ড পরিদর্শন এবং অনিরাপদ কাজ প্রত্যাখ্যানের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে কার্যকর সেইফটি কমিটি গঠন এবং স্বাধীন ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নিশ্চিত করে ইউনিয়নবিরোধী কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তারা।
এ জাতীয় আরো খবর..