• আপডেট টাইম : 22/07/2026 09:52 AM
  • 78 বার পঠিত
অভিযুক্ত হুজুর মোস্তাফিজুর রহমান গ্রেপ্তার
  • শরীফুল ইসলাম, কুষ্টিয়া
  • sramikawaz.com

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসার হুজুরকে আটক করেছে পুলিশ।

২১ জুরাই মঙ্গলবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের তালোয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোডিং থেকে মো. মোস্তাফিজুর রহমান নামে ওই হুজুরকে আটক করা হয়। আটক মো. মোস্তাফিজুর রহমান ঝিনাইদহের হরিণাকুÐু উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে।

এলাকাবাসী জানায়, গত ১২ জুলাই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে গেলে ৫জন শিশু মাদ্রাসায় শুয়ে ছিল। এরপর বেলা ১১টার দিকে মাদ্রাসার বড় হুজুর মো. মোস্তাফিজুর রহমান ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে তার কক্ষে নিয়ে বলাৎকার করে। এ ঘটনাটি অন্য শিশুরা দেখে ফেললেও ভয়ে তারা কাউকে কিছু বলার সাহস করেনি। এরপর থেকে ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করলে একে একে ঘটনটি মাদ্রাসায় ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে সালিশ-বৈঠক বসায় মাদ্রাসা কমিটি। এসময় উৎসুক জনতা মাদ্রাসায় ভিড় করলে অনৈতিক ঘটনা নিয়ে সালিশ বৈঠকের খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থরে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসার ‘বড় হুজুর’ মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করে। পাশাপাশি বলাৎকারের শিকার শিক্ষার্থী ও তার বাবাকে থানা হেফাজতে নেয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বললেন, গত ১২ তারিখ সকালে ঘুমিয়ে ছিলাম। সে সময় হুজুর এসে আমার সাথে জিনা করে। তখন আমি চোখ খুললে হুজুর মাথায় হাত দিয়ে বলে মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ। ওই শিক্ষার্থী আরও বলে, স্বপ্ন দেখার কথা বলে হুজুর মোস্তাফিজুর রহমান ১০ থেকে ১২ দিন তাকে জিনা (বলাৎকার) করেছেন।’

শিক্ষার্থীর বাবা হুজুর একাধিকবার ছেলেকে ধর্ষণ করেছে। সেই খবর শুনে মাদ্রাসায় এসে দেখি সালিশ চলছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সালিশ বসানোর কথা স্বীকার করে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি মো. জ্লুফিকার মাহমুদ স্থানীয় এক গণমাধ্যম কর্মীকে বলেন, দুপুরে ঘটনাটি জানতে পেরে অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে সালিশ বৈঠক বসানো হয়েছে। এখনও বিষয়টি স্পষ্ট নয়। আগামীকাল (বুধবার) সকালে আরও বড় পরিসরে সালিশ বসানো হবে।
এবিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন জানান, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি আমাদের মোবাইল টিমকে ঘটনাস্থলে পাঠাই। মোবাইল টিম ভুক্তভোগী ও তার বাবা এবং অভিযুক্ত হজুরকে থানায় নিয়ে এসেছে। ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...