• আপডেট টাইম : 14/09/2026 11:43 PM
  • 189 বার পঠিত
  • শরীফুল ইসলাম, কুষ্টিয়া
  • sramikawaz.com

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। এতে বন্যাকবলিতদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কমেনি।

উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামের অন্তত ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তবে চাহিদার তুলনায় সরকারি বরাদ্দের ত্রাণ সহায়তা অপর্যাপ্ত। দুই দিনে মাত্র ৮ হাজার পরিবারের মাঝে চাল ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ফলে ত্রাণ সহায়তার আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে বিপুল সংখ্যক পানিবন্দি পরিবার। আজ সোমবার চিলমারী ইউনিয়নের বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লা।

এদিকে বন্যার পানিতে বসতভিটা, রাস্তাঘাট ও আবাদি জমি তলিয়ে যাওয়ায় চরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবারের ঘরের ভেতরে পানি টলমল করায় মাচা বানিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু স্থানে বা নৌকায়। আবার অনেকে আপাতত অন্যত্র চলে গেছেন, পানি কমলে ঘরে ফিরবেন। বর্তমানে জরুরি প্রয়োজনে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের প্রধান অবলম্বন ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা।

পানি কমতে শুরু করলেও দুর্গত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় নলকূপসহ পানির অন্যান্য উৎস দূষিত হয়ে পড়েছে। ফলে দেখা দিয়েছে তীব্র বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। এতে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েডসহ পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বন্যাকবলিতরা। পাশাপাশি জ্বর, সর্দি-কাশি, চর্মরোগ ও চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, আজ ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পানি ৫ সেন্টিমিটার কমেছে। আপাতত নতুন করে পানি বাড়ার আশঙ্কা নেই। সোমবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজে পদ্মার পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ০১ মিটার (যেখানে বিপদসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার)। অর্থাৎ, পানি বর্তমানে বিপদসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১৮ টন চাল এবং শুকনা খাবারের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে বরাদ্দের চাল ১০ কেজি করে ১ হাজার ৮০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে ২ লাখ টাকার শুকনা খাবার দেওয়া হচ্ছে আরও ২৫০টি পরিবারকে।

 ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লা চিলমারী ইউনিয়নের বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগতভাবেও দুর্গতদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

ত্রাণ বিতরণকালে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিন্দ্য গুহ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শুভাগত বিশ্বাস এবং দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহীদ সরকার মঙ্গল ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদুজ্জামান রুবেলসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

অপরদিকে, বন্যায় কৃষকদের তলিয়ে যাওয়া ফসলের মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানান, চিলমারী, রামকৃষ্ণপুর, ফিলিপনগর, মরিচা, প্রাগপুর ও হোগলবাড়ীয়া ইউনিয়নে ১ হাজার ৫০ দশমিক ১৩ হেক্টর আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৮৩ হেক্টর মরিচ, ২২৮ হেক্টর কলা, ৩৩ হেক্টর সবজি, ৬২ হেক্টর আমন ধান, ২৩ হেক্টর মাসকলাই, ২১২ হেক্টর বীজ পাট, ২০৩ হেক্টর গোখাদ্য, ৬ হেক্টর ফলের বাগান এবং ০.১৩ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজতলা। পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে অবগত করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...