২০১০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে এক পাকিস্তানি শ্রমিককে হত্যার দায়ে বাংলাদেশের ছয় নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল আদালত। আপিলেও সেই সাজা বহাল থাকে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে এবং নিহতের পরিবারকে প্রায় ৩৮ লাখ টাকা (৬ লাখ দিরহাম) রক্তপণ দিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের বাঁচিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।
কিন্তু দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২০২৬ সালে সৌদি আরবে এসে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র দেখা গেল। সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও এ বিষয়ে কিছুই জানত না জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট।
মূল ঘটনা ও বর্তমান বিতর্ক
২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণা দেয় দেশটির কর্তৃপক্ষ। মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের সাজা হয়েছিল বলে জানানো হলেও, ঠিক কী অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল এবং বিচার কীভাবে চলেছে তার কোনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে। জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের কিছুই জানায়নি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর দুই ব্যক্তির পরিচয় ও মামলার তথ্য জানতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়। অথচ বিদেশে গ্রেফতার নাগরিকদের কনসুলার সহায়তার অধিকার থাকলেও এক্ষেত্রে সেই সুযোগ পাওয়া যায়নি।
অতীত ও বর্তমানের ব্যবধান
২০১০ সালের দুবাই ঘটনা: ৬ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের রায় হলেও বাংলাদেশ সরকার নিহতের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে রক্তপণের ব্যবস্থা করে। তৎকালীন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের উদ্যোগে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তহবিল থেকে অর্থ দিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়।
২০১১ সালের রিয়াদ ঘটনা: ২০১১ সালের ৭ অক্টোবর রিয়াদে এক মিশরীয় নিরাপত্তাকর্মীকে হত্যার অভিযোগে আট বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। সেবারও বাংলাদেশ সরকার প্রাণভিক্ষার আবেদন ও রক্তপণের মাধ্যমে ক্ষমা পাওয়ার চেষ্টা করলেও সমঝোতা সফল হয়নি।
২০২৬ সালের সৌদি ঘটনা: পূর্বের ঘটনাগুলোতে বাংলাদেশ সরকার মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত থাকলেও এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পেলেও বর্তমান ঘটনায় কনস্যুলেটের দাবি অনুযায়ী তারা পুরোপুরি অন্ধকারে ছিল।
অমীমাংসিত প্রশ্নসমূহ
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে এবং জনসাধারণের মনে বেশ কিছু বড় প্রশ্ন দানা বেঁধেছে:
সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ঠিক কী ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের মামলার তথ্য আগেভাগে পাওয়ার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা কি করা হবে?
আটক ব্যক্তিরা কনসুলার সহায়তা চেয়েছিল কি না, কিংবা বাংলাদেশ মিশনের কাছে তথ্য পৌঁছানোর অন্য কোনো সুযোগ ছিল কি না?
দুই ব্যক্তির বিচার থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পর্যন্ত দীর্ঘ প্রক্রিয়ার খবর কেন বাংলাদেশ কনস্যুলেট সময়মতো জানতে পারল না?
১৬ বছর আগে দুবাইয়ের মামলায় যেখানে নাগরিকদের জীবন বাঁচাতে সফল হয়েছিল বাংলাদেশ, সেখানে ২০২৬ সালের এই ঘটনা কূটনৈতিক যোগাযোগ ও প্রবাসীদের নিরাপত্তায় কনসুলার সেবার কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের
এ জাতীয় আরো খবর..